যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে আয়োজিত এক নৈশভোজে ভারতের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খ্যাতিমান ও বিতর্কিত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি।
এশিয়ান আমেরিকান রাইটার্স ওয়ার্কশপের দাতব্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে গেরুয়া শিবিরের রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বিশেষ করে ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশটির একদল তরুণ প্রতিবাদী যুবকের আন্দোলনকে সাধুবাদ জানিয়ে সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এই সাহিত্যিক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখক অমিতাভ কুমারের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে রুশদির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
নিজের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে রুশদি জানান যে, তৎকালীন বোম্বে শহরে বেড়ে ওঠার দিনগুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে জাতি-ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই সমাজের সর্বস্তরের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ উৎসবে শামিল হতো, যা সেই সময়ের সামাজিক সম্প্রীতিকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছিল।
কিন্তু বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির চরম অবক্ষয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাম্প্রতিক একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজার মতো সর্বজনীন উৎসবেও এখন কট্টরপন্থী নানা মতাদর্শের প্রভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষণীয়ভাবে কমে গেছে, যা দেশজুড়ে এক ধরণের সামাজিক দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত দেয়।
রুশদির বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী ও ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো। অতীতে লেখক হিসেবে ইসলামি উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কড়া কলম ধরার কারণে এই মহলটিই তাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে অকাতরে প্রশংসা করলেও, ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের প্রকাশ্য সমালোচক হয়ে ওঠায় তারা এখন তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই রুশদির অবস্থানের পক্ষেও জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করে বলেছেন যে, নিউইয়র্কের ওই ঘরোয়া আড্ডায় সালমান রুশদি ভারতের রাজনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয়টির ওপর আলোকপাত করেছেন।
এদিকে ওই একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়া যিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মা । মীরা নায়ার তরুণদের আন্দোলনকে সমর্থন জুগিয়ে আরশোলা বা ককরোচের রূপক ব্যবহার করে গণতন্ত্র রক্ষার এই লড়াইয়ে নিজেকে তাদের ‘মা’ হিসেবে অভিহিত করায় বিতর্ক আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব
