ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াল দ্বিতীয় রাউন্ডে। প্রথম দফার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর কেউ নির্ধারিত ৫০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে দেশটির পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান কে হচ্ছেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
গতকাল রোববারের এই নির্বাচনে লড়াই হয়েছে মূলত বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে। আশি বছর বয়সী লুলা যেমন পোড় খাওয়া রাজনীতিক, তেমনি ৪৫ বছরের ফ্লাভিও হলেন ব্রাজিলের সাবেক বিতর্কিত নেতা জইর বলসোনারোর পুত্র।
প্রায় নিরানব্বই শতাংশ ভোট গণনা শেষে নির্বাচনী চিত্র স্পষ্ট হয়ে গেছে। জরিপের হিসাব ওলটপালট করে দিয়ে তরুণ ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট। আর বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা সামান্য পেছনে থেকে অর্জন করেছেন ৪৪ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেউ না পাওয়ায় এখন চূড়ান্ত লড়াই হবে এই দুজনেই।
ফলাফল প্রকাশের পর বেশ আত্মবিশ্বাসী শোনেন ফ্লাভিও। প্রথম দফার এই সাফল্যে ভীষণ উচ্ছ্বসিত তিনি। অন্যদিকে লুলা একে একটু অন্যভাবে দেখছেন; নিজের পিছিয়ে থাকাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আসল লড়াই এবার জমবে এবং অতিরিক্ত সময়ে তিনি ঘুরে দাঁড়াবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও বর্তমান জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে ফ্লাভিও বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এর আগে বাবার বিরুদ্ধে নানা আইনি জটিলতা ও কারাদণ্ডের সুবাদে ডানপন্থীদের পালে এমনিতেই হাওয়া লেগেছে। বর্তমানে লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক মঞ্চে ডানপন্থী ধারার জোয়ার বইছে। সামগ্রিকভাবে ব্রাজিলের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তির পরবর্তী গন্তব্য কোন দিকে বাঁক নেয়, তা দেখতে চোখ রাখতে হবে আর মাত্র তিন সপ্তাহের অপেক্ষা।
সান নিউজ / রাজীব
