জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বাড়ানোর জন্য চলতি সপ্তাহেই আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
রোববার (৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে যে সাজা দেয়া হয়েছে, প্রসিকিউশন মনে করছে তা যথেষ্ট নয়। তাই সাজা বাড়ানোর জন্য চলতি সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হবে।
এর আগে গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে মামলার দুটি চার্জে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ওমর ফারুক। অন্যদিকে হাসানুল হক ইনুর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হাসানুল হক ইনুর কথোপকথন এবং তার ভূমিকার বিষয়টি মামলায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির পাশাপাশি কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইনুর ভূমিকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলে।
হাসানুল হক ইনুকে গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি দুটি চার্জে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন। তবে প্রসিকিউশন মনে করছে, মামলার অভিযোগ ও প্রমাণের তুলনায় এই সাজা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। সেই কারণে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সাজা বৃদ্ধির আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, এ সপ্তাহেই আপিল দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আপিলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড পুনর্বিবেচনা করে আরও কঠোর সাজা দেয়ার আবেদন জানানো হবে।
সাননিউজ/বান্না
