বাংলাদেশে ধ্বংসাত্মক অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে। দুই দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে দাবি করে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় মামলায় দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবির পুলিশের পরিদর্শক নূর আলম। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামির জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোঁড়িবোজ গ্রামে। তাকে ডিএমপির একটি জিডির সূত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে টিএফআই সেলের মাধ্যমে তাকে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ ও কাগজপত্র পর্যালোচনায় পুলিশ দেখতে পায়, রবিউল ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্মতারিখে অমিল রয়েছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ করা আছে।
আসামি জানায়, সে প্রায় ১০-১২ বছর ধরে একাধিকবার বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। কখনও ট্যুরিস্ট আবার কখনও বিজনেস ভিসায় তিনি দেশে প্রবেশ করতেন। তবে, মূলত পর্যটন ও ব্যবসায়ের আড়ালে তিনি গুপ্তচরবৃত্তি চালাতেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন বলে জানা যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, আসামি গত ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থপরিপন্থি কাজ চালিয়েছেন। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি তোলা, স্পর্শকাতর নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
আসামির বিরুদ্ধে দ্য অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর পৃথক ধারায় অপরাধ প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা বাংলাদেশবিরোধী কোনো বড় চক্রের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন কিনা— তা যাচাই এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ১০ দিনের নিবিড় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়।
এর আগে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
সাননিউজ/বান্না
