মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সরকার গত ছয় মাসেও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার বগুড়া সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। জ্বালানি সংকট ও শিল্প খাতের চরম ধস বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বিদ্যুতের লাইন লম্বা হওয়া সংক্রান্ত নানা দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে মূলত সংকটকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। অথচ বিরোধীদের পক্ষ থেকে দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত টিম দিয়ে সরকারকে বিনামূল্যে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকসহ পুরো শিল্প উৎপাদনে চরম ধস নেমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং অর্ডারগুলো অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্যাপক শ্রমিক ছাঁটাই ও ব্যাংক ঋণখেলাপি বেড়ে দেশ এক অনিশ্চিত অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়বে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহার অভিযোগ ডা. শফিকুর রহমান বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনকালের ট্রমা ও গুম-খুনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, চব্বিশের বিপ্লবের পর দেশের শাসনযন্ত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জামায়াতসহ সংস্কারকামী দলগুলো এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় দেশের জনগণ সংস্কার ও গণভোটের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে জনগণের সঙ্গে করা ওয়াদার বরখেলাপ করে সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছে। ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গণরায় অমান্য করার পরিণতিতেই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। জনগণের ভোটের রায় অবহেলা করার ক্ষমতা কারো নেই। জামায়াতের ৬ দফা আন্দোলন ও উপস্থিতিবৃন্দবিদ্যুৎ সংকট সমাধান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ মোট ৬টি মৌলিক দাবিতে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান ডা. শফিকুর রহমান। তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ করা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি রোধ করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে আনা এবং কৃষকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগরীর আমীর আবিদুর রহমান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, মহানগরীর আইন সম্পাদক শাহীন মিয়া, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক ইকবাল হোসেন, নুরুল ইসলাম আকন্দ এবং আইবিডব্লিউএফ-এর মহানগরী সভাপতি মাহফুজুল হক মোল্লাসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
