সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এতদিনের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে আরও আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
শনিবার (২২ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ১২ দিন ও ৪০ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে দেশটির সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এসেছে।
তিনি জানান, নতুন কৌশলের আওতায় ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে দ্রুত ও ব্যাপক পাল্টা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আগাম প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মার্কিন স্থল হামলার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন আকরামিনিয়া। তার দাবি, মার্কিন সেনাদের হত্যা বা বন্দী করতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বা বৈধভাবে অস্ত্রের মালিক কোনো নাগরিক মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দী করতে পারলে তাকে ৫ বিলিয়ন তোমান, যা প্রায় ২৬ হাজার ডলারের সমান, পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো নারী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিলে পুরস্কারের অর্থ দ্বিগুণ হয়ে ১০ বিলিয়ন তোমান বা প্রায় ৫৩ হাজার ডলার হবে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি মূল্যের দ্বিগুণ দামে কিনে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা। পরে অস্ত্রটি মূল মালিকের নামে সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ এবং তাকে নতুন একটি বিকল্প অস্ত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলেও দাবি করেছেন আকরামিনিয়া। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
আকরামিনিয়ার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত এবং অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার প্রমাণ।
সান নিউজ/ জামান
