শুক্রবার রাতে কানাডার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর আকস্মিক ৫০% শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরু হয়। মধ্যরাতের ঠিক পরপরই এই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনার পর, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও কানাডীয়দের জন্য আমাদের লক্ষ্য অর্জনের মতো যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি।
সময়সীমা অতিক্রমের ঠিক কয়েক মিনিট আগে এক ইমেইল বিবৃতিতে কার্নি বলেন, “এর ফলে, আজ সন্ধ্যায় আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং কানাডার আলোচনাকারীদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছি।”
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্কের ফলে কানাডা থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন আমদানির ওপর প্রভাব পড়বে।
কার্নি বলেন, আমাদের শ্রমিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে কানাডা ডলারের বিপরীতে ডলার দিয়ে সেই শুল্কের জবাব দেবে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়। এর আগে মঙ্গলবারের সেই পরিস্থিতির সাথে এর একটি নাটকীয় বিপরীত রূপ দেখা যায়, যখন ট্রাম্প তিন দিনের জন্য শুল্ক স্থগিত করেছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন যে দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে!
সর্বশেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই পক্ষের কর্মকর্তারাই একটি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন। বৃহস্পতিবার, মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের দায়িত্বে থাকা কানাডার মন্ত্রী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রীরের সাথে বেশ কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন।
গ্রীরের কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার রাতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা খুব কাছাকাছি আছি, আমরা অগ্রগতি অব্যাহত রাখছি এবং কাঙ্ক্ষিত পয়েন্টে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এখানেই থাকব।”
শুক্রবার কানাডার আলোচনাকারীরা তাদের মার্কিন সমকক্ষদের সাথে আবারও বৈঠক করেন এবং আলোচনা রাতের শেষ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়। কর্মকর্তারা শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার পরেও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
কার্নি তার বিবৃতিতে জানান, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তসমূহের শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনগুলো ছিল অন্যায়, অর্থনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং যেকোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
কার্নি আরও বলেন, আমরা শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছি যে আমেরিকা বদলে গেছে, এবং আমরা আমাদের পুরনো সম্পর্কে ফিরে যাব না। কানাডার কাছে যা আছে তা বিশ্ব চায়। এবং আমরা কোনো দেশকে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দেব না।
শনিবার ভোরে এক বিবৃতিতে গ্রীর জানায়, কানাডা চলতি সপ্তাহের শুরুতে সম্মত শর্তের অধীনে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে অস্বীকার করেছে।
মার্কিন চেম্বার অব কমার্স এই সপ্তাহে একটি বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে যে, উচ্চতর শুল্ক উভয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, মার্কিন পরিবারগুলোর খরচ বাড়িয়ে দেবে, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও ব্যাহত করবে এবং উত্তর আমেরিকান বাণিজ্য চুক্তির ওপর নির্ভরশীল ১ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন চাকরির ঝুঁকি তৈরি করবে।
শুক্রবার কার্নির ঘোষণার পর, কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সও একই সুর গেয়ে এটিকে “এই আত্মঘাতী বাণিজ্য গাথায় উত্তর আমেরিকান প্রতিযোগিতক্ষমতার ওপর একটি বড় আঘাত” বলে অভিহিত করেছে।
কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ক্যান্ডেস লাং বলেছেন, আমেরিকানরা তাদের খরচ বাড়তে দেখবে, এবং কানাডিয়ানরা গ্রাহক, বিনিয়োগ এবং ছোট ব্যবসাগুলোকে হারিয়ে যেতে দেখবে।
১৯৩০ সালের শুল্ক আইনের ধারা ৩৩৮ দ্বারা প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার অধীনে নতুন শুল্কগুলো আরোপ করা হয়েছিল, যা আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি।
এই আইন হোয়াইট হাউসকে যেকোনো বৈদেশিক বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক বাস্তবায়নের অনুমতি দেয় যারা মার্কিন বাণিজ্যের সাথে বৈষম্য করে।
সূত্র: সিবিসি নিউজ
সান নিউজ/ জামান
