টটেনহাম ছেড়ে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার সময় হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ডে ফেরার সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিতই মনে করা হয়েছিল। প্রিমিয়ার লিগে অসমাপ্ত গল্প, টটেনহামের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক এবং অ্যালান শিয়ারারের রেকর্ড সব মিলিয়ে একদিন কেইন আবার ইংল্যান্ডে ফিরবেন, এমন ধারণাই ছিল অনেকের।
তবে তিন বছর পর সেই ভাবনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। কেইনের কথায়, টটেনহাম ছাড়ার সময় একদিন ফিরে আসার ইচ্ছা থাকলেও এখন সেই তাগিদ আর আগের মতো নেই।
কেইন বলেন, ‘টটেনহাম ছেড়ে যখন প্রথম বের হয়েছিলাম, মনে হয়েছিল একদিন ফিরবই। কিন্তু এখন সেই তাগিদটা আগের মতো নেই।’
বায়ার্ন মিউনিখে আসার পর শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও স্থিরতা পেয়েছেন কেইন। জার্মান ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারও মিউনিখে নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের বদলে বর্তমান নিয়েই এখন বেশি মনোযোগী এই তারকা।
তিনি বলেন, ‘আমি এখানে খুব সুখে আছি। এই দল, এই কোচ, এই পরিবেশ—সব মিলিয়ে দারুণ। পরিবারও এখানে গুছিয়ে নিয়েছে। এখন আমার লক্ষ্য, যতটা সম্ভব সেরা জায়গায় থাকা।’
বায়ার্নে কেইনের সাফল্যও তার সিদ্ধান্তকে আরও শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে। ক্লাবটিতে প্রথম তিন মৌসুমেই বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। সামনে এখন জার্মান ফুটবলের দুই কিংবদন্তি গার্ড মুলার ও রবার্ট লেভানডফস্কির কীর্তি।
মুলার ও লেভানডফস্কি দুজনেরই বুন্দেসলিগায় সাতটি করে গোল্ডেন বুট রয়েছে। আর এই শতাব্দীতে টানা চারবার এই পুরস্কার জেতার কীর্তি রয়েছে শুধু লেভানডফস্কির। কেইনও এখন সেই রেকর্ডের পথে এগোচ্ছেন।
বায়ার্নে তার গুরুত্ব অবশ্য শুধু গোল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি। বয়স বাড়লেও গোলের ক্ষুধা কমেনি; বরং মিউনিখে এসে আরও পরিণত এক কেইনকেই দেখা যাচ্ছে।
প্রিমিয়ার লিগে কেইনের গোলসংখ্যা ২১৩। অ্যালান শিয়ারারের ২৬০ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি এখনো ৪৭ গোল দূরে। ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম বড় ব্যক্তিগত রেকর্ড এটি। তবে সেই রেকর্ড ভাঙতে এখনই ইংল্যান্ডে ফেরার তাড়না নেই কেইনের।
ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে দরজা পুরোপুরি বন্ধও করছেন না তিনি। কেইনের ভাষায়, ‘আমি কখনোই “না” বলি না। তবে এখন আমি বায়ার্নেই মনোযোগী। ভবিষ্যৎ কী আনবে, দেখা যাবে।’
সান নিউজ/ হুমায়রা
