বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক না করার নিজের তৈরি নিয়ম থেকে সরে এসে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। গত মঙ্গলবার কাঠমাণ্ডুর সিংহ দরবারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবও উপস্থিত ছিলেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভারত ও নেপালের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও নেপালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাপ্রধানের নেপাল সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গেও সরাসরি বৈঠক করেছিলেন। সেটিই ছিল শাহের সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। বৈঠকে তিনি ভারতের সঙ্গে নেপালের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
তবে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক না করার নিয়ম শাহ নিজেই করেছিলেন। সেই নিয়ম থেকে এবারও সরে আসায় ভারতকে নেপাল বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নেপালি সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে নেপাল যান ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ। সফরের অংশ হিসেবে সোমবার এক অনুষ্ঠানে নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল তাকে নেপালি সেনাবাহিনীর ‘মানদ জেনারেল’ পদে ভূষিত করেন।
ভারত ও নেপালের মধ্যে ১৯৫০ সাল থেকে একে অপরের সেনাপ্রধানকে ‘মানদ জেনারেল’ পদে সম্মানিত করার ঐতিহ্য চলে আসছে। দুই দেশের সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে এই সম্মান দেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার নেপালি সেনা সদর দপ্তরে যান জেনারেল ধীরজ শেঠ। সেখানে নেপালি সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও জেনারেল শেঠের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দূতাবাসের ভাষ্য, এ সফরের মাধ্যমে ভারত ও নেপালের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। দুই দেশের সেনাবাহিনীর সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ ও দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
সান নিউজ/ জামান
