সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। বুধবার বিকেলে তাকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খায়রুল হকের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, বুধবার বিকেলে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন। এর ফলে তার কারামুক্তির আইনি বাধা দূর হয়।
হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করেছিল। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ দেন।
আইনজীবী জানিয়েছেন, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা রয়েছে এবং সবগুলোতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অন্য কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোয় কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না।
মামলার নথি অনুযায়ী, রেস্টুরেন্টকর্মী উজ্জ্বল মিয়া হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর মামলা করেন। তবে মামলা হওয়ার অনেক আগেই, ওই বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে খায়রুল হক কারাগারে ছিলেন।
গত ১৭ মে হাই কোর্ট নির্দিষ্ট কোনো মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে গত ৯ আগস্ট প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাই কোর্টের আদেশ বহাল রেখে আবেদনটি নিষ্পত্তি করেন।
এর পরদিন বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ হত্যাচেষ্টা মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন।
এ বি এম খায়রুল হক দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তার নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছরের ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।
পরে ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষে কয়েক দফায় তিনি ওই পদে পুনর্নিয়োগ পান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৩ আগস্ট আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
এরপর গত বছর ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
সান নিউজ/ জামান
