ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কী স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার নিশ্চিত নয়। তবে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান ও তার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ৬১ দিন নিখোঁজ থাকার পর ১০ মে তাকে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে ফেলে যাওয়া হয়।
তিনি জানান, পরে ভারতীয় পুলিশ সালাহউদ্দিন আহমেদকে হেফাজতে নেয় এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়, তাকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতীয় আদালত তাকে খালাস দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলও খারিজ হয়ে গেলে তিনি মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
শেখ হাসিনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বর্তমানে তিনি ভারতে কী ধরনের স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তা বাংলাদেশ জানে না। তবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান আমিনুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে আনা অপরাধের দায় তাদেরই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করবেন।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
