গ্যাসের তীব্র সংকটে নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদনে ব্যাপক ধস নেমেছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ডাইং কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো রং করা কাপড় সরবরাহ করতে না পারায় গার্মেন্টস কারখানাগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় ইতোমধ্যে অনেক গার্মেন্টস কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় উৎপাদনের প্রথম ধাপেই নীটিং কারখানাগুলোতে কাপড় বুনন ব্যাহত হচ্ছে।
নীটিং কারখানায় কাপড় বুননের পর তা ডাইং কারখানায় পাঠানো হলেও গ্যাস সংকটের কারণে সময়মতো কাপড় রং করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা।
শিল্পকারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, কখনো কখনো গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে যাচ্ছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় কয়েক ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহের পরই তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জে প্রায় এক হাজার গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি কারখানা বিসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া নীটিং, ডাইং ও প্রিন্টিংসহ আরও চার শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই গ্যাসনির্ভর।
গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অনেক ডাইং কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পুরো শিল্প খাতে। গ্যাসের চাপ শূন্যের কাছাকাছি নেমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের ভাষ্য, দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান না হলে উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিও হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
