এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জুলাই চেতনা থেকে সরে যাওয়ার প্রমাণ।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিএনপির ঐতিহ্য হচ্ছে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া। অতীতে আমরা তা প্রত্যক্ষ করেছি। আবার সেই প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে নতুন ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, দলীয়করণের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জনগণ তা মেনে নেবে না।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ বহালের দাবি
বৈঠকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগের বর্তমান প্রক্রিয়া বহাল রাখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ভূমিকা অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়।
সভায় সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মসূচি ও আন্দোলনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কয়েক ধাপে আন্দোলনের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
শিক্ষকদের অধিকার নিয়ে কাজের আহ্বান
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের দাবি আদায়ে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতকে দায়িত্ব নিতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভোগান্তি ও বঞ্চনা দূর করতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে শিক্ষকদের অপমান ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম। এতে বক্তব্য দেন অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, অধ্যাপক নুরনবী মানিক, অধ্যাপক মাওলানা শাহজাহান মাদানী, অধ্যাপক মঞ্জুরুল হক, ড. আব্দুস সবুর মাতব্বর, মো. মতিয়ার রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম সরকার ও অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল।
সান নিউজ/ হুমায়রা
