এতে চাঁদের পৃষ্ঠে নতুন একটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে, অর্থাৎ শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ বেগে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এ সংঘর্ষে প্রায় তিন টন টিএনটির সমপরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হতে পারে। এর ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি নতুন গর্ত তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা হলেও সংঘর্ষের সময় কোনো দৃশ্যমান আলোর ঝলক বা চিহ্ন দেখা যায়নি। গবেষকদের ধারণা, সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
প্রাথমিক হিসেবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ লাখ কেজি ধ্বংসাবশেষ ওপরে উঠে যেতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে নাসার লুনার রিকনেসাঁ অরবিটার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংঘর্ষস্থলের ছবি ধারণ করবে।
ফ্যালকন-৯ রকেটটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চাঁদে দুটি লুনার ল্যান্ডার পাঠানোর একটি মিশনে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেটটির কোনো অংশেরই চাঁদে আঘাত হানার কথা ছিল না।
মিশনের সময় রকেটের নিচের ধাপটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এলেও ল্যান্ডারগুলোকে চাঁদের পথে পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত ওপরের ধাপটি মহাকাশে থেকে যায়। পরে সৌর কার্যকলাপ ও বিভিন্ন মহাজাগতিক মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে চাঁদের দিকে চলে যায়।
নাসার বিজ্ঞানবিষয়ক পরিচালক এবং স্পেসএক্সের ড্রাগন মহাকাশযান কর্মসূচির পরিচালক জুলিয়ানা শেইমান জানিয়েছেন, সৌর কার্যকলাপ ও মহাকর্ষীয় শক্তির সম্মিলিত প্রভাবে রকেটের ওই অংশের কক্ষপথ পরিবর্তিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এদিকে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের একটি প্রাকপ্রকাশিত গবেষণার বরাতে ওয়্যার্ড জানিয়েছে, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের মেঘ প্রায় ১১৪ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
নাসা জানিয়েছে, এ ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করতে রকেটের গতিপথ পর্যবেক্ষণ এবং সংঘর্ষস্থল নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে যাওয়া হবে।
সান নিউজ/ হুমায়রা
