নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হয়েছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। যা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের চেয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি। তবে এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশের মতো। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন থেকে অনেক মার্কিন ক্রেতার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে হলে উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা চাপ দেখা গেছে। ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানির বাজারে যে সংকোচন হয়েছে, বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার তার তুলনায় কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে দেশটির বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে ভিয়েতনাম।
অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, ভিয়েতনাম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও কম্বোডিয়াও পোশাক রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে। তাই দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদনে অটোমেশন বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও উন্নত করতে হবে।
ডব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীন। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম, চতুর্থ স্থানে ভারত এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে তুরস্ক।
সান নিউজ/ হুমায়রা
