বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, পাশাপাশি ঘামও জমে বেশি। এর ফলে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সময় ছত্রাকের সংক্রমণ, ব্রণ, ঘামাচিসহ বিভিন্ন চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বর্ষায় ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস মেনে চললেই বর্ষাকালে ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব।
মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন
ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হালকা, সাবানমুক্ত ও পিএইচ-ভারসাম্যযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রেখে ঘাম, অতিরিক্ত তেল ও ধুলাবালি পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
ক্ষতিকর উপাদান এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত মুখ ধোয়া, কড়া সাবান, বেশি স্ক্রাব ব্যবহার এবং খুব গরম পানি দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা এড়িয়ে চলুন। এসব অভ্যাস ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল করে দিতে পারে।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
বর্ষাকালেও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রয়োজন। সেরামাইড, গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা নিয়াসিনামাইডযুক্ত হালকা ও সুগন্ধিমুক্ত ময়েশ্চারাইজার ত্বকের সুরক্ষা স্তর মেরামতে সহায়ক।
সানস্ক্রিন ব্যবহার চালিয়ে যান
অনেকে বর্ষাকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করে দেন, যা ঠিক নয়। মেঘলা দিনেও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রতিদিন এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মানের ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
ভেজা পোশাক দ্রুত পরিবর্তন করুন
বর্ষায় শরীরের ভাঁজ ও ত্বক শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। ভেজা পোশাক দ্রুত বদলে ফেলুন এবং বাতাস চলাচল করে এমন পোশাক পরুন। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েডযুক্ত কোনো ক্রিম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
ত্বকে দীর্ঘদিন লালচে ভাব, চুলকানি, খোসা ওঠা বা বারবার ফুসকুড়ির সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে বর্ষাকালেও ত্বক রাখা যায় সুস্থ ও উজ্জ্বল।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
