ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি আবেদনকারী। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জন বাংলাদেশি আবেদনকারীর মধ্যে গড়ে মাত্র সাতজন শরণার্থী মর্যাদা বা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পাচ্ছেন।
ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দপ্তর (অফপ্রা)-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ৮১৬ জন ফ্রান্সে আশ্রয়ের আবেদন করেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম আবেদন, পুনর্বিবেচনা এবং পুনরায় খোলা আবেদন মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৩৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন আবেদনকারী শরণার্থী মর্যাদা অথবা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পেয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
অফপ্রা ও ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালত (সিএনডিএ)-এর যৌথ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদনকারীদের নিজ দেশে নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, যুদ্ধ বা গুরুতর ঝুঁকির বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব, অসঙ্গত তথ্য বা দুর্বল দাবির কারণে অনেক আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক আশ্রয় ইউরোপে প্রবেশ বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সহজ কোনো মাধ্যম নয়। প্রতিটি আবেদন কঠোর আইনি যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়।
তারা জানান, বাংলাদেশকে নিরাপদ উৎস দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের নতুন আশ্রয় আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ঝুঁকির প্রমাণ ছাড়া আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমেছে।
২০২৫ সালে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আবেদন জমা পড়ে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে দেশটিতে ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন। দেশটির সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ছিল ৪১ দশমিক ২ শতাংশ।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক আশ্রয় একটি গুরুতর আইনি প্রক্রিয়া, যেখানে বাস্তব ঘটনা, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করলে শুধু আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ক্ষতিই হয় না, বরং দেশের নাগরিকদের সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
তার পরামর্শ, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ পথ বেছে নেওয়া জরুরি। মানবপাচারকারী বা দালালদের প্রলোভনে পড়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেষ্টা করলে তা ব্যক্তি, পরিবার ও দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সান নিউজ/ হুমায়রা
