খুলনা অঞ্চলে কাঁচাপাট রপ্তানি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় পাট শিল্পে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। প্রায় ৯ মাস ধরে রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির থাকায় বিপুল পরিমাণ পাট গুদামে আটকে রয়েছে, যার বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে মান হারাতে শুরু করেছে।
সাধারণত এই মৌসুমে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির কাজে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও এখন অধিকাংশ গোডাউন ফাঁকা পড়ে আছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কৃষকদের কাছ থেকে কেনা পাট দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণে থাকায় গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রপ্তানিকারকদের মতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাঁচাপাটকে শর্তসাপেক্ষ রপ্তানি তালিকায় যুক্ত করার পর থেকেই এই সংকটের শুরু। বিভিন্ন অনুমোদন ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে রপ্তানি কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক চাপও বেড়েছে। গুদাম ভাড়া, ব্যাংক ঋণের সুদ এবং অন্যান্য খরচ বহন করতে গিয়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শ্রমিকরা। খুলনা অঞ্চলের প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিয়মিত কাজ না থাকায় অনেকেই অন্য পেশায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, আগে সপ্তাহে ছয় দিন কাজ থাকলেও এখন মাসে কয়েকদিনও কাজ মেলে না। ফলে পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই ঋণ করে জীবনযাপন করছেন।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, দ্রুত রপ্তানি চালু না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এতে শুধু শ্রমিক নয়, দেশের অর্থনীতিও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
এদিকে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানাচ্ছে, সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে এবং রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাঁচাপাট রপ্তানি হলেও চলতি বছরে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পখাত বড় সংকটে পড়বে।
