চেক জালিয়াতির মামলায় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ড বহাল রেখেছে দিল্লি হাইকোর্ট। তবে নিম্ন আদালতের দেওয়া ছয় মাসের কারাদণ্ড কমিয়ে তিন মাস নির্ধারণ করেছেন আদালত।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিচারপতি স্বরণ কান্ত শর্মার একক বেঞ্চ রাজপাল যাদবের পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে এ রায় দেন। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছেন, মামলার বিচার চলাকালে বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় অভিনেতাকে ‘প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অ্যাক্ট’-এর আওতায় কোনো ধরনের আইনি সুবিধা দেওয়া হবে না।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মামলার শুনানির সময় রাজপাল যাদব একাধিকবার বকেয়া অর্থ পরিশোধের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। আদালত তাকে সমঝোতার জন্য একাধিক সুযোগ দিলেও তিনি শর্ত অনুযায়ী পাওনা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হন।
বিচারপতি স্বরণ কান্ত শর্মা বলেন, আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের পক্ষ থেকে তাকে বারবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজের দেওয়া অঙ্গীকার এবং আদালতের শর্ত বারবার লঙ্ঘন করেছেন।
মেসার্স মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের দায়ের করা সাতটি চেক বাউন্স মামলার রায়ের অংশ হিসেবে আদালত রাজপাল যাদবকে প্রতিটি মামলায় ১ কোটি ৫ লাখ রুপি করে জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রতিটি মামলায় ১ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার রুপি অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানকে এবং ২৫ হাজার রুপি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।
একই সঙ্গে অভিনেতার স্ত্রী রাধা যাদবকে প্রতিটি মামলায় ৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৮০ রুপি করে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতে আগে জমা দেওয়া ২ কোটি ২৫ লাখ রুপি চূড়ান্ত হিসাবের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া দুই মাসের জন্য স্থগিত রেখেছে দিল্লি হাইকোর্ট। এই সময়ের মধ্যে রাজপাল যাদব চাইলে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন অথবা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
সান নিউজ/ জামান
