দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সকল দুর্গম এলাকায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে আনার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমমানুয়েল আব্রিউ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নগর জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও এখনো অনেক শিশু ও পরিবার সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে স্থাপিত ছয়টি আলো ক্লিনিক জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজের (ইএসপি++) আওতায় বিনামূল্যে, সমন্বিত এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে।
আলো ক্লিনিক মডেলের আওতায় মাতৃ, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাসহ নানা ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী এসব সেবা গ্রহণ করেন।
চারটি ক্লিনিকে ২৪/৭ ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা প্রদান করা হয়েছে।
কর্মশালায় আলো ক্লিনিক মডেলের চার বছরেরও বেশি সময়ের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত শিক্ষা তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এবং সুইডেন সরকারের অর্থায়নে ইউনিসেফ এই আলো ক্লিনিক মডেলটি উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
