মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের পূর্ব আলীপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালটি অবৈধ দখল, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অনতি বিলম্বে উক্ত খালের অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করে খননের দাবী এলাকাবাসীর।
যে খালে একসময় সমিতির হাট বাজার অতিক্রম করে আড়িয়াল খাঁ নদের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল এলাকার মানুষের যাতায়াত, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। বর্তমানে খালের বিভিন্ন স্থানে মাটির বাঁধ ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালটির কোনো সংস্কার বা খনন না হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তারা দ্রুত খালটি খনন এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় যুবক মনির হোসেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ছোটবেলায় এই খালে গোসল করেছি, নৌকায় ঘুরেছি, এমনকি নৌকাবাইচও দেখেছি। একসময় এই খাল ছিল আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু এখন অবৈধ বাঁধ ও দখলের কারণে খালটি প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই সরকার দ্রুত খালটি খনন করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করুক এবং খালের প্রাণ ফিরিয়ে দিক।”
স্থানীয় কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, “আগে এই খালের পানি দিয়ে কৃষিজমিতে সেচ দিতাম। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছি। খালটি পুনঃখনন করা হলে কৃষিকাজে অনেক উপকার হবে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের একাধিক স্থানে মাটি ফেলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও আবার খালের জমি দখল করে স্থায়ী ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কারণে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে খালটি তার অস্তিত্ব হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফীন বলেন, “বর্তমানে উপজেলা জুড়ে খাল খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় খালগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখননের মাধ্যমে এর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। এতে কৃষি, পরিবেশ এবং এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
