দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে টানা আট কার্যদিবস ধরে। ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির পর বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাজারে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী উত্থান প্রবণতা। এর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন পৌঁছেছে গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
ঈদের পর তৃতীয় কার্যদিবস বুধবার (৩ জুন) ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধি পায়। এতে এক্সচেঞ্জটির সব প্রধান মূল্যসূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায় এবং দিনের শেষ পর্যন্ত এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনের শুরু থেকেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। ফলে সূচকগুলো শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী থাকে এবং দিন শেষে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে বাজার শেষ হয়।
লেনদেন শেষে ডিএসইতে মোট ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধি পায়, বিপরীতে ৯৮টির দাম কমে এবং ৪৯টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।
এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৪২ পয়েন্টে উন্নীত হয়। শরিয়াহ ভিত্তিক সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়, আর ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করে।
শুধু সূচকই নয়, লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে। বুধবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১৯৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা বেশি। এই লেনদেন গত ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে এবং প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
সিএসইতে মোট ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৮টির শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৪টির কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারটিতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও সক্রিয় বাজার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
