ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন তিন নেতা ও শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় এই কর্মসূচির সূচনা করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
কবর জিয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম দেশবাসীর প্রতি আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিন নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গণ-অভ্যুত্থানের পর এবং বিগত ১৬ বছর মানুষের ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকার পর আমরা একটি নতুন নির্বাচন ও গণভোটের দিকে এগোচ্ছি। আজ থেকে তার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলো।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও তিন নেতার সমাধিকে নির্বাচনী প্রচারণার সূচনাস্থল হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকেই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অগ্নিপাত শুরু হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—সব ঐতিহাসিক সংগ্রামের সঙ্গে এই এলাকা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জাতীয় প্রধান দুই নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে স্মরণ করে এবং পূর্বসূরিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের নির্বাচনী যাত্রা শুরু করছি। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি নতুন বন্দোবস্তের দিকে এগোচ্ছি।”
কবর জিয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-৮ এলাকায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ এবং গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্য দিয়েই এনসিপির নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
সাননিউজ/আরআরপি
