পোল্যান্ডে আরও পাঁচ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দেশটিতে চার হাজার সেনা পাঠানোর একটি পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত বাতিল করার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) ট্রাম্প এ নতুন ঘোষণা দিলেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকির সঙ্গে সুসম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছর পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় নাভরোকিকে সরাসরি সমর্থন দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
অতিরিক্ত এ সেনারা আগের বাতিল হওয়া পরিকল্পনার অংশ, নাকি নতুন কোনো অভিযানের আওতায় ছিলেন, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিস্তারিত জানাননি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছিল, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র) নীতির অংশ হিসেবে তারা ইউরোপে সেনাসংখ্যা কমিয়ে আনতে চায়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের বিরোধের জেরে দেশটি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের দাবি ছিল, ইরান যুদ্ধে মার্কিন কূটনীতিকেরা ‘লাঞ্ছিত’ হয়েছেন- ফ্রিডরিখ মের্ৎসের এমন মন্তব্যের কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হন। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ানোয় ন্যাটো মিত্রদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প।
এর আগে পেন্টাগন যখন পোল্যান্ডে চার হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হঠাৎ বাতিল করে, তখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এটিকে ‘সাময়িক বিলম্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন যে পোল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নাভরোকি দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। গত জানুয়ারিতে বিবিসির এক অনুষ্ঠানে নাভরোকি দাবি করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে থামানো ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষমতা একমাত্র ট্রাম্পেরই আছে।
ন্যাটো জোট নিয়ে ট্রাম্পের নানা সমালোচনা সত্ত্বেও নাভরোকির বিশ্বাস, ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান রক্ষক এখনো যুক্তরাষ্ট্রই।
ইতোমধ্যে জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন খোদ মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার কাছে একটি ভুল বার্তা যেতে পারে।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতেই সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের সংখ্যা বর্তমানে ৩৬ হাজারের বেশি। বিপরীতে ইতালিতে ১২ হাজার ও যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন।
সাননিউজ/আরএ
