দেশে হামের প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান সংক্রমণ মৌসুমে গত ৮৬ দিনে হাম এবং হাম-সদৃশ উপসর্গে মোট ৬৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মারা গেছে ৫৩৯ জন শিশু। অন্যদিকে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯২ শিশু। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের, একজন সিলেট বিভাগের এবং অপরজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা।
এদিকে সংক্রমণের হারও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে নতুন করে ৯৮০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৩৩ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে চিকিৎসার জন্য।
একই সময়ে পরীক্ষাগারে ৫৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, গত ৮৬ দিনে দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৮৪ জনে। এর মধ্যে ৬৬ হাজার ১৭০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
অন্যদিকে, ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৯ হাজার ৮৩৩ জনে পৌঁছেছে। তবে আশার খবর হলো, গত এক দিনে ১ হাজার ১৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ২৯২ জন রোগী চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই অভিভাবকদের সচেতন থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
