চাষিদের সঙ্গে কথা বলে আলু নিয়ে শুধু হতাশার গল্পই শোনা গেল। তানোর উপজেলার চোরখৈর গ্রামের চাষি মো. মইদুল ইসলাম জানান, তিনি হিমাগারে ১২১ বস্তা আলু রেখেছিলেন। সেই আলু বিক্রি করে হিমাগারের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মেটাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ঘর থেকে ১৬ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে।
একই উপজেলার তালন্দ গ্রামের আলুচাষি সাফায়েত হোসেন জানান, তিনি হিমাগারে দেড় হাজার বস্তা আলু রেখেছিলেন। সরকার দাম বেঁধে দেওয়ায় তিনি আশা করেছিলেন ডিসেম্বরের শেষে আলুর দাম বাড়বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে হয়েছে। এতে হিমাগারের ঋণ শোধ করতে ঘর থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা দিতে হয়েছে। গত বছর তিনি ২৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন, এবার সর্বস্বান্ত হওয়ায় মাত্র আট বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন।
তালন্দ গ্রামের আরেক চাষি আসাদুজ্জামান সুমন জানান, গত বছর তিনি ৬৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০ লাখ টাকা। আলু বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। হিমাগারে রাখা তিন হাজার বস্তা আলু থেকে তিনি একটি টাকাও পাননি। আলু ছেড়ে দিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। এ অভিজ্ঞতার কারণে এবার তিনি মাত্র পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন।
