বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অনুশীলনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে অবশেষে যুক্ত হয়েছে আধুনিক স্পিন বোলিং মেশিন ‘মার্লিন বাই বোলা’। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই আধুনিক যন্ত্রটি সংগ্রহ করেছে বিসিবি। গতকাল মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে প্রথমবারের মতো এই মেশিনের ঘূর্ণি সামলালেন ক্রিকেটাররা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজকে সামনে রেখে যে প্রস্তুতি ক্যাম্প চলছে, সেখানেই গতকাল এই প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্পিন খেলার দুর্বলতা কাটানোর পথে এক বড় ধাপ অতিক্রম করলো বিসিবি।
নতুন এই অত্যাধুনিক মেশিনের বিশেষত্ব হলো এর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা। এর মাধ্যমে ব্যাটাররা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং আর্ম বলের নিখুঁত অনুশীলন করতে পারছেন। এর আগে বাংলাদেশ দলে কেবল এনালগ বোলিং মেশিন ব্যবহারের সুযোগ ছিল। সেই পুরোনো মেশিনগুলো মূলত পেস বোলারদের গতি এবং বাউন্স অনুকরণ করতে পারত। ফলে স্পিন মোকাবিলার অনুশীলনে ব্যাটারদের বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা থেকে যেত।
মার্জিন মেশিন আসার ফলে এখন থেকে লুপ, টার্ন এবং বাউন্স কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। গতকাল প্রথম সেশনে সাইফ হাসান ও জাকের আলী অনিকসহ বেশ কয়েকজন ব্যাটার এই মেশিনের সামনে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে আধুনিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ নিতে এই যন্ত্রটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান যে ‘মার্লিন বাই বোলা’ মেশিনটি দিয়ে বলের লেন্থ, গতি এবং স্পিনের মাত্রা সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি ম্যানুয়াল এবং অটোমেটিক, উভয় পদ্ধতিতেই পরিচালনা করা সম্ভব। অটোমেটিক মোডে সেট করে দিলে মেশিনটি টানা ২৫ থেকে ৩০টি বল একই লেন্থে বা ভিন্ন ভিন্ন স্পিনে সরবরাহ করতে পারে। এতে একজন ব্যাটার কোনো বিরতি ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ একই ধরনের বল খেলার অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারেন।
শাহরিয়ার নাফীস আরও জানান যে মেশিনটি অত্যন্ত ভারী হওয়ায় এটি আকাশপথে না এনে জাহাজে করে আনা হয়েছে। এই উচ্চ প্রযুক্তির মেশিনের দাম পড়েছে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ টাকার সমান।
