ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তারা পুরো পারস্য উপসাগর জুড়ে মাইন বিছিয়ে সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেবে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, শত্রু পক্ষ যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা করে, তবে সামরিক কৌশল অনুযায়ী পারস্য উপসাগরের সমস্ত প্রবেশপথ এবং যোগাযোগ লাইনে বিভিন্ন ধরনের নৌ-মাইন, এমনকি উপকূল থেকে ভাসমান মাইনও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে দীর্ঘ সময়ের জন্য পুরো পারস্য উপসাগরই হরমুজ প্রণালির মতো অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়বে এবং এর সমস্ত দায়ভার আক্রমণকারী পক্ষকেই বহন করতে হবে।
বর্তমানে ইরান চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দিলেও অন্যদের জন্য এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যেই বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তেহরানকে জলপথ খুলে দিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খারগ দ্বীপ’ দখল বা অবরোধ করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বনাম ইরান যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাপে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২১ মার্চ) গভীর রাতে এক চরম আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে জানিয়েছেন, সোমবার (২৩ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় ২৩:৪৪ মিনিটের মধ্যে (৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা) হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেবে।
ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
সান নিউজ/আরএ
