জুম খেতে উৎপাদিত ছোট লাউয়ের খোল ও বনের চিকন বাঁশ— এসব সাধারণ উপকরণ দিয়ে প্লুং তৈরি করা হয়। চিম্বুক পাহাড়ের রামরিপাড়ার প্লুং কারিগর চিংতুই ম্রো জানালেন, ছোট আকৃতির ডলু বাঁশের নলে খুব সূক্ষ্ম পরিমাপে ছিদ্র করা হয়। তারপর সাঙ্কু ( পামজাতীয় একধরনের গাছ) গাছের শুকনা ছাল অতি নিপুণ হাতে শাণিত ছুরি দিয়ে কেটে হারমোনিয়ামের রিডের মতো রিড তৈরি করা হয়। রিডগুলো ছিদ্র করা বাঁশের পাইপে স্থাপন করা হয়। প্রকারভেদে প্লুং নানা আকারের হয়ে থাকে।
লেখক সিংয়ং ম্রো তাঁর লেখা ‘ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি’ গ্রন্থে লিখেছেন, রিনা প্লুং থেকে প্লাই প্লুং বা নাচের বাঁশি ও অন্যান্য বাঁশি হয়েছে। রিনা প্লুং উদ্ভবের আগে ম্রোদের কোনো বাঁশি ছিল না। ম্রো গানের শিল্পীরা রিনা প্লুং বাজিয়ে গান গেয়ে থাকেন। এই গানে ম্রো জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা জীবন্ত হয়ে ওঠে।
বান্দরবানের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক নুক্রাচিং মারমা বলেছেন, ম্রো জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়েছে প্লুং। আবার ম্রো পরিচয়ের প্রতীকও হয়ে উঠেছে এই বাঁশি।
