যুদ্ধবিরতি শুরুর পর মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজ চলাচল করেছে। আর বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সংগৃহীত জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে মাত্র ১০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছে থেকে টোল হিসেবে জাহাজে থাকা প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে চাইছে, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই টোল আদায় বন্ধ করতে বলেছেন, অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তাঁর দেশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি নিয়ন্ত্রণ করবে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানিদের ভয়ে জাহাজগুলো সেখান দিয়ে চলাচল করছে না। ইরান সবাইকে হুমকি দিচ্ছে এবং বাধ্য করছে। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির প্রধান সুলতান আল জাবের লিঙ্কডইনের একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। তাই পরিষ্কারভাবে বলা ভালো- হরমুজ প্রণালি খোলা নেই। চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শর্তারোপ করা হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার নতুন এক বার্তায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সময় ইরান ‘হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনাকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে’।
অ্যাক্সিওস লিখেছে, এই ‘নতুন পর্যায়ের’ মধ্যে সম্ভাব্য টোল বা মাশুল আদায়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সেটি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়বে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি ছিল।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস আরও লিখেছে, তেল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যবাহী শত শত ট্যাঙ্কার এখনো হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই সংকটের মধ্যে পারস্য উপসাগরে প্রায় ২০ হাজার নাবিক কার্যত আটকা পড়ে আছেন।
সান নিউজ/আরএ
