যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পক্ষ হয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। গতকাল সোমবার দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানিয়েছে, ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার জানান, যুদ্ধের ব্যাপারে তিনি তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট করেছেন। স্টারমার আরও জানান, যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকার এ অঞ্চলে তাঁর নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। সেই সঙ্গে নিজেকে ও তার মিত্রদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
স্টারমার বলেন, ‘আমরা বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িত হব না। তবে আমরা এমন একটি দ্রুত সমাধানের দিকে কাজ চালিয়ে যাব, যা এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং প্রতিবেশীদের জন্য ইরানের হুমকি বন্ধ করবে।’ সাংবাদিকদের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, হরমুজ পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে তিনি কাজ করছেন। তবে তিনি হরমুজে রয়্যাল নেভির যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় মিত্রদের নিয়ে প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য একটি ‘কার্যকর পরিকল্পনা’ নিয়ে কাজ করছে।
ফ্রান্স আগে বলেছিল, তারা প্রণালি দিয়ে জাহাজ পাহারা দেওয়ার জন্য একটি সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক মিশন নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু জোর দিয়ে বলেছে, ‘পরিস্থিতি অনুমতি দিলে’ ও কেবল লড়াই বন্ধ হলেই তারা জাহাজ পাঠাবে। জার্মান ফেডারেল পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল বলেছেন, তিনি এ পরিকল্পনা নিয়ে সন্দিহান। এআরডি টেলিভিশনকে তিনি বলেন, ‘আমরা কি শিগগিরই এ সংঘাতের সক্রিয় অংশ হব? না।’
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি রণতরী না পাঠানোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, কূটনীতিই হরমুজ প্রণালির সংকট সমাধানের সঠিক উপায়। তিনি বলেন, ‘হরমুজের ক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি, কূটনীতির জয়লাভ করা উচিত। সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্পেনের মতো অনেক দেশ সরাসরি ইরানের হামলার বিরোধিতা করে আসছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, তারা ট্রাম্পের প্রস্তাব বিবেচনা করছেন।
ইরানে যুদ্ধ ন্যাটোর জন্য কোনো বিষয় নয়, বলছেন জার্মান চ্যান্সেলর মার্ৎস
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎস ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে তাঁর দেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রে ‘জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ম্যান্ডেটের অভাব রয়েছে। তাই শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, এটা ন্যাটোর কোনো বিষয় নয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল তাদের অভিযান শুরুর আগে জার্মানির সঙ্গে পরামর্শ করেনি।
অস্ট্রেলিয়া ও জাপান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি সংসদে বলেছেন, ‘আমরা এস্কর্ট জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। জাপান স্বাধীনভাবে কী করতে পারে এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে কী করা যেতে পারে, তা পরীক্ষা করে দেখছি।’
অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী ক্যাথেরিন কিং জাতীয় সম্প্রচারক এবিসিকে বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ পাঠাব না। আমরা জানি, এটি কতটা অবিশ্বাস্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটি এমন কিছু নয়, যা আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে বা আমরা অবদান রাখছি।’
রণতরী পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার জন্য দেশগুলো যদি তাঁর আহ্বানে সাড়া না দেয়, তবে ন্যাটো জোট ‘খুব খারাপ’ ভবিষ্যতের মুখোমুখি হবে।
তিনি বলেন, ‘যারা এ প্রণালির সুবিধাভোগী, তারা নিশ্চিত করবেন– সেখানে যেন কোনো খারাপ ঘটনা না ঘটে।’ ট্রাম্প বলেন, ‘ইউরোপ ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পারস্য উপসাগরের তেলের ওপর বেশি নির্ভর করে। যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া যায় বা এটি যদি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়, তবে আমি মনে করি, এটি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুক্তরাজ্যের ওপর ‘খুশি নন’ এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়ায় ‘খুব অবাক’ হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ পাঠানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তাবটি অনেক দেরিতে এসেছে। দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, যিনি হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে সাহায্য করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন। মার্কিন ররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইচ্ছুক দেশগুলোর নাম ঘোষণা করবেন।
