ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত নেই। একদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কূটনৈতিক সমাধান চান। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আরও কতগুলো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবেন, সে তালিকা সাংবাদিকদের জানাচ্ছেন। তিনি খার্গ দ্বীপসহ ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার নতুন হুমকি দিয়েছেন। ইসরায়েল তাদের সংসদে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় বাজেট পাস করেছে, যেখানে রয়েছে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি। পাকিস্তান মধ্যস্থতা আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইলেও তা যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
যুদ্ধ এরই মধ্যে এক মাস অতিক্রম করেছে। এ অবস্থায় পরমাণু ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এক সপ্তাহে ইসরায়েল ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও স্টিল কারখানায় ব্যাপক হামলা চালায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ হাইফা বন্দরে। এতে সেখানকার তেল শোধনাগারে আগুন লেগে যায়। হামলা হয়েছে অন্য শহরগুলোতেও।
তবে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে হিজবুল্লাহ। লেবাননে অভিযান শুরু করলে তারা ইসরায়েলের সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করছে। গতকাল সোমবার সংগঠনটির বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, তাদের হামলায় লেবাননের বেইত লিফ এলাকায় বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা হতাহত হয়েছেন। সেখানে সেনাদের অবস্থান করা একটি বাড়ি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তারা উড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া হাইফা বন্দরেও হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। তারা বলছে, এটা ‘উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের ধারাবাহিক হামলা’।
ইসরায়েলও ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান ও লেবাননে। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের একটি চেকপোস্টে ইসরায়েলের বিমান হামলায় এক সেনা নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলেছে, ট্রাম্প ইরান থেকে প্রায় ১ হাজার পাউন্ড সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উত্তোলনের লক্ষ্যে একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযানের কথা বিবেচনা করছেন। এটি তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকাকালে অন্যতম জটিল একটি অভিযান ও ইরানে চলমান সংঘাতের একটি বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনীকে বেশ কয়েকদিন ধরে ইরানের ভূখণ্ডের ভেতরে কাজ করতে হতে পারে, যা সেনাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন ও সুরক্ষিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ গুরুতর বিপদের মুখে ফেলবে। কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে প্রেসিডেন্টের হাতে যাতে একাধিক বিকল্প থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতি চলছে।
সান নিউজ/আরএ
